Ultimate magazine theme for WordPress.

তিন বছর অনাবাদী রাখলেই খাস তালিকাভুক্ত হবে জমি

0

কৃষিখবর প্রতিবেদক : অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য অনাবাদি জমি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী, ওই জমি সরকারের দখলে চলে যাবে।

পরপর ৩ বছর অনাবাদি থাকলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি তার জমি কৃষিকাজে ব্যবহার না করে পতিত রাখলে ওই জমি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ৯২ (১)-এর (গ) ধারা মোতাবেক খাস করা হবে। এমতাবস্থায় আবাদযোগ্য জমি পতিত না রেখে আবাদ করার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অনাবাদি জমি খাস করা হবে।

সূত্র জানায়, আবাদ না হওয়ার কারণ হিসেবে নিচু এলাকার কিছু জমিতে পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কিছু জমি কচুরিপানা ও ঘাসে ভরে গেছে। অর্থাৎ চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব জমি। যার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সেচ সুবিধার অভাব, খাল ভরাট হয়ে যাওয়া, নিচু এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা, স্লুইস গেট নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার অভাব, চরের জমি বন্দোবস্ত না হওয়া, দুর্গম এলাকা, পাহাড়ের পাদদেশের জমিতে বন্য হাতির আক্রমণ, জলাবদ্ধ এলাকায় জোঁকের উপদ্রব, ভূমি মালিকদের অনাগ্রহ ও ইটভাঁটার জন্য টপ সয়েল কেটে নেওয়া।

অন্যদিকে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত রাখতে আবাদযোগ্য প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমিগুলো আবাদযোগ্য করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

এই গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে উৎসাহী করছি। চাষযোগ্য পতিত জমিগুলো আমরা চিহ্নিত করা শুরু করেছি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ, বিশেষ করে এলএলপি, ফিতা পাইপ, বারিড পাইপ ব্যবহার করে সেচের এলাকা বৃদ্ধি করা, খাল খনন, স্লুইচ গেট নির্মাণ এবং নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, চরের জমি বন্দোবস্ত প্রদান, বিশেষ প্রণোদনার মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশের পতিত জমিতে ফলবাগান স্থাপন ও নিচু এলাকায় কচুজাতীয় সবজির চাষ করা গেলে অনাবাদি জমি আর থাকবে না। এতে ফসল, সবজি ও ফলের চাহিদার সংকট কমে আসবে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.