Ultimate magazine theme for WordPress.

ভারতে চাষ হচ্ছে ঠোঁট রাঙানোর ‘লিপস্টিক ট্রি’

0


​​কৃষিখবর ডেস্ক : বহুজাতিক কোম্পানির লিপস্টিক-এর দিন কি শেষ? আম, পেয়ারার মতো গাছ থেকে একবার ফল পেড়ে নিয়ে ঠোঁটে লাগালেই কেল্লা ফতে। ইতিমধ্যে ‘রূপবৃক্ষে’র খোঁজ পেয়ে অনেকে হানা দিয়েছে কৃষি দপ্তরে।

বহুজাতিক কোম্পানির লিপস্টিক-এর দিন কি শেষ? আম, পেয়ারার মতো গাছ থেকে একবার ফল পেড়ে নিয়ে ঠোঁটে লাগালেই কেল্লা ফতে। ইতিমধ্যে ‘রূপবৃক্ষে’র খোঁজ পেয়ে অনেকে হানা দিয়েছে কৃষি দপ্তরে। ঠোঁট রাঙানোর ‘লিপস্টিক ট্রি’ নিয়েও গিয়েছে বাড়িতে। নদিয়ার ফুলিয়ায় রাজ্য সরকারের কৃষি দপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিজেই ‘রূপবৃক্ষ’ লাগিয়েছেন সহকারি কৃষি অধিকর্তা অনুপম পাল। শুধু গাছ লাগানো নয়, বাঁকুড়া, বর্ধমান, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা-সহ কয়েকটি জেলায় আগ্রহী চাষিদের কাছে ঠোঁট-রাঙানো গাছের বীজ বিলিও করেছেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব। ওদের ছাড়পত্র পেলে খাবারেও এই রং ব্যবহার করার পরামর্শ দেব। আমাদের রাজ্যে বাঁকুড়া-সহ দু’একটি জেলায় আগে থেকেই এই গাছ থাকলেও তার ব্যবহার সবাই জানে না। তাই ব্যবহারও কম। হালকা সুগন্ধ-যুক্ত লাল ও হালকা কমলা রঙের বীজ। এই গাছের ফল খানিকটা লিচুর মতো দেখতে। গায়ে কাঁটার মতো আঁশ রয়েছে। বীজ পাকলে লম্বালম্বি ভাবে ফেটে যায়। ওই মোড়কের মধ্যেই থাকে রঙিন অনেকগুলি বীজ। একটা পরিণত গাছ পেয়ারা বা মাঝারি আমগাছের মতো হয়। গাছের বয়স দেড় দু’বছর হলে অগস্ট থেকে অক্টোবরে ফুল ধরে। ডিসেম্বরে ফল হয়।

তিনি বলেন, ‘এর বিজ্ঞানসম্মত নাম বিক্সা অরিলেনা। ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকায় গাছটি আনোত্তো নামে পরিচিত। দক্ষিণ আমেরিকার গাছ বলেই আমরা এটাকে বেশি চিনি। ওডিশা, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং আমাদের রাজ্যেও এই গাছ কিছু রয়েছে। অন্য রাজ্যে কোথাও এটিকে সিঁদুরি গাছ নামেও ডাকা হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার গাছ। বাহারি গাছ হিসেবেই বেড়ে ওঠে।’

তিনি বলেন, ‘ঠোঁট রাঙানো, সিঁদুর, কুমকুম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ভেষজ রং হিসেবে বোঁদে, জিলিপি, জ্যাম, জেলি, আইসক্রিম, কেক ইত্যাদিতেও এটি ব্যবহার করা যায়। আবির তৈরিতেও সহজে ব্যবহার করা যায়।’ তাঁর কথায়, দক্ষিণ আমেরিকার পেরু সর্বাধিক এই রঙ উৎপাদন ও রপ্তানি করে। এর পরের স্থান ব্রাজিল ও কেনিয়ার।

পুরুলিয়ার বধূ সনকা মাহাতো কয়েক দিন আগে ফুলিয়ায় এসেছিলেন ধান চাষ নিয়ে সরকারি প্রশিক্ষণ নিতে। লিপস্টিক গাছ আছে জেনে শুধু অবাক-ই হননি, হাতেকলমে গাছ থেকে ফল পেড়ে অফিস ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়েই নিজের ঠোঁট রাঙাতে ভোলেননি। তাঁকে দেখা আরও কয়েকজন মহিলা নিজেদের ঠোঁট রাঙিয়ে ওই গাছের বীজ বাড়ি নিয়ে যান সহকারী কৃষি অধিকর্তাকে বলে।

বাজারের ওষ্ঠরঞ্জনী বা লিপস্টিকে বিভিন্ন রকম রঞ্জক পদার্থ, তেল, মোম থাকে। প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় নারীদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঠোঁট রাঙানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাচীন মিশরীয়রা সামুদ্রিক আগাছা থেকে লাল রং সংগ্রহ করে তার সঙ্গে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে রূপটান দিতেন। রানি ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে ওষ্ঠরঞ্জনী ব্যবহার করতেন যা তৈরি হত মেরুন রংয়ের বিটল্ পোকা থেকে। বর্তমানে অবশ্য রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে লিপস্টিক।

কৃষ্ণনগরে রাষ্ট্রীয় উদ্যান পালন ও গবেষণা দপ্তরের প্রাক্তন উদ্যানবিদ ব্যাসদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় লিপস্টিক-ট্রি রয়েছে। গ্রামীণ মানুষের কাছে কোথাও লটকান, কোথাও সিঁদুরি নামে পরিচিত। এই ফলের রঙে শরীরে কোন ক্ষতি হয় না।’ তাঁর মতে, বিক্সিন নামের যৌগই আসলে এই গাছের বীজের রঙের মূল উপাদান। গরম জলে বা ইথাইল অ্যালকোহলে মিশিয়ে বীজ থেকে পাওয়া রঙকে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সুতি ও রেশমবস্ত্র রং করা থেকে শুরু করে, মাখন-ঘি-চকোলেট, খাবারের রং হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান পালন বিভাগের অধ্যাপক অরুণ রায় বলেন, ‘লিপস্টিক-ট্রি ঘিরে অনেক শিল্প সম্ভাবনা রয়েছে। কালারিং এজেন্ট হিসেবে এই গাছের বীজের রং নানাভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।’
//এআরএইচ//

Leave A Reply

Your email address will not be published.